
আমি আবার সবাইকে বলতেছি যে আপনার লেখা আমাকে দিন আমি এই ব্লগ এ পোষ্ট করে আপনার লেখা কে উপযোক্ত সম্মান দিব।।
স্থানঃ টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সময়ঃ সকাল পৌনে দশটা।
শুভ্র বসে আছে। ডানহাতে চায়ের কাপ। বাম হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের শলাকা।
সে সিগারেট সবসময় বাম হাতেই ধরে। তার একটা কারনও আছে। ছোটবেলা থেকেই সে বাঁহাতি। সে বাম হাতেই বেশিরভাগ কাজ করে থাকে।
মামা, চা খাইবেন? শুভ্র চোখ
তুলে তাকালো। একজন আধাবয়সী লোক চায়ের ফ্ল্যাস্ক নিয়ে তার
সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্রঃ দেখছেনই তো হাতে চায়ের কাপ
আছে। দেখেও কেনো জিজ্ঞাসা করলেন
চা খাবো কিনা..??
চাওয়ালাঃ হেঃ হেঃ হেঃ খেয়াল
করি নাই মামা। সিগারেট খাইবেন?
সিগারেট আছে। দিমু?
শুভ্র এবার মুখে কিছু না বলে বাঁহাত উঁচু
করে সিগারেট দেখালো। চাওয়ালা আর
কিছু না বলে সোজা সামনে হাঁটা ধরলো।
সুপ্রভাত জনাব। স্যরি, আসতে একটু লেট হয়ে গেলো। অফিস টাইম তো, রাস্তায় প্রচুর ট্রাফিকজ্যাম ছিলরে। কিরে.. কথা বলছিস না কেনো?
শুভ্রঃ আচ্ছা, কিছু কি বলার আছে? এই আর নতুন কি? প্রায়ই তো তুই দেরি করেই আসিস।
এটা আর নতুন কি? আর প্রতিদিন একই কথার জবাব দিতে কার ভাল লাগে বল?
বন্যাঃ হয়েছে হয়েছে!! ভাব নিতে হবে না। সকাল সকাল একটা ঝাড়ি না নিলে হতো না বুঝি?
শুভ্রঃ হিঃ হিঃ হিঃ নিলাম আর কি..
তোকে রাগাতে আমার বেশ ভাল লাগে।
হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ তুই আসলেই একটা….. না থাক,
বলবো না।
শুভ্রঃ জানিস, এই মুহূর্তে আমার
সামনে একটি মানুষ বসে আছে। যার
সৌন্দের্যর কাছে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যই ফিকে। আর রাগলে এই
মানুষটাকে যে আরো কতটা অদ্ভুত সুন্দর লাগে তা তোর মত প্রেত্নি বুঝবে কি করে।
হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ পাম মারা হচ্ছে!! শয়তান কোথাকার..
শুভ্রঃ চা খাবি?
বন্যাঃ হুঁ
শুভ্রঃ চল উদ্দানের ভেতরে যাই। ওখানের চা ভাল। এখানের চাওয়ালার
চা খেলে মনে হয় পুকুরের পানি খাচ্ছি।
বন্যাঃ চল।
মামা, মালা নিবেন? দুজন
বসা থেকে উঠতেই একটি পাঁচ/সাত বছরের বাচ্চা মেয়ে ছুটে এসে বললো।
শুভ্রঃ কত রে? দাম কত?
বাচ্চা মেয়েটি বললো, ১০ ট্যাকা দ্যান।
শুভ্র মানিব্যাগ থেকে দশ টাকা বের
করে বাচ্চা মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিল।
শুভ্রঃ পেছন ফের।
বন্যাঃ কেনো?
শুভ্রঃ বললাম ফিরতে, ফের।
শুভ্র বন্যার খোঁপায় বেলি ফুলের মালাটি বেঁধে দিলো।
বন্যাঃ আজ হঠাৎ এত রোমান্টিক হবার
কারনটা কি শুনি জনাব?
শুভ্রঃ কেন! আমি কি তোকে ভালবাসি না?
বন্যাঃ হ্যাঁ বাসিস। তবুও… আজ একটু
বেশি রোমান্টিক দেখাচ্ছে তো। তা বললাম।
শুভ্রঃ ও! তাহলে ওই সে ওখানে সুন্দরি মেয়েটা বসে আছে তার খোঁপায় মালাটা বেঁধে আসি?
বন্যাঃ হিঃ হিঃ হিঃ যা তাহলে।
দেখি তোর কত সাহস। শোন, সাতসকালে যদি থাপ্পর খাবার শখ
জেগে থাকে, তাহলে যা। আমি বারন
করবো না।
শুভ্রঃ হয়েছে হয়েছে। পাকামো করিস না। চল, মাঠে গিয়ে বসি।
কিরে, চা টা বেশ মজার না?
বন্যাঃ হুঁ।
শুভ্রঃ মামা, একটা সিগারেট দাও তো।
বন্যা তার ভ্যানিটিব্যাগ থেকে একটি লাইটার বের করে এগিয়ে দিল।
শুভ্রঃ এইটা কার! আর তোর কাছে আজকাল এই জিনিসো থাকে! হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ জ্বি না জনাব, এটা আপনারই। গত সপ্তাহে আমি কেড়ে নিয়েছিলাম।
আপনি নিতে ভুলে গেছেন। আমিও
দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আর যত সিগারেট খাওয়ার খেয়ে নিন জনাব শুভ্র। বিয়ের পর
যদি একটা সিগারেটও খেতে দেখি, এক্কেবারে ঠোঁট দুটো সেলাই করে দেবো।
শুভ্রঃ হিঃ হিঃ হিঃ সে পরে দেখা
যাবে। আগে বিয়ে হোক। তারপর…
বন্যাঃ এত পাজি কেন তুই! আর মাত্র এক সপ্তাহ। খেয়ে নে, যত পারিস।
শুভ্রঃ চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। খা জলদি।
বন্যাঃ চল। বসুন্ধরা সিটিতে যাবো।
বলতে বলতে চায়ের দোকানিকে ব্যাগ
থেকে টাকা দিয়ে বললো, কত বিল
হয়েছে তা এখান থেকে রাখুন।
শুভ্রঃ কেনো? ওখানে কি?
বন্যাঃ তোর গায়ে হলুদের
পাঞ্জাবী আমি পছন্দ করে দেবো।
শুভ্রঃ আরে!! কি বলিস! আমার পকেটে একশ টাকার একটা নোট আর কিছু
খুচরা ছাড়া কিচ্ছু নাই। কি দিয়ে কিনবো?
বন্যাঃ সেটা আমার মাথা ব্যাথা। চল।
এইযে মামা, যাবেন? বসুন্ধরা সিটি?
রিকশাওয়ালাঃ হ। উঠেন।
বন্যাঃ ওঠেন।
শুভ্র রিকশায় চেপে বসলো। পাশে বন্যা। রিকশা ছুটে যাচ্ছে।
বন্যাঃ আচ্ছা, আমরা কি বিয়ের পরও একজন আরেকজনকে তুই করেই ডাকবো?
শুভ্রঃ সমস্যা কি! তুই তুমির মাঝে সমস্যা কি? একটা ডাকলেই তো হয়।
বন্যাঃ মানুষজন কি বলবে? শুনতে তখন কেমন দেখাবে না? ( নাক কুঁচকে বললো)
শুভ্রঃ আজিব তো! এই ছোট ব্যাপার
নিয়ে তোর এত মাথা ব্যাথা কেন? What the…. কিছু বললাম না।
বন্যাঃ হয়েছে। আর মেজাজ
দেখাতে হবে না। চ্যান্স পেলেই ভাব
নেয়া তো তোর পুরোনো অভ্যাস। শোন, আমাকে বিয়ে করতে হলে তোর এইসব বাজে অভ্যাসগুলো ছেড়ে দিতে হবে। পারবি না?
শুভ্রঃ পারবো না মানে!! আবার জিগায়!
একশবার পারবো।
বন্যাঃ একশবার পাবার কোনো প্রয়োজন নেই
বাপু। একবার পারলেই হবে।
শুভ্রঃ ওই হলো একটা…
বন্যাঃ ফাজিলের হাড্ডি কোথাকার।
( মুচকি হেসে বললো)
শুভ্রঃ এই যে! এই যে, এই হাসিটা দেখার জন্যই তো আমি সারাক্ষণ ব্যাকুল হয়ে থাকি। কই থাকে এই হাসি! এই হাসি দেখার জন্যই তো এত আয়োজন।
বন্যাঃ দুইদিন পর করবি বিয়ে।
ঢং দেখলে মনে হচ্ছে বাচ্চা ছেলে। বাঁদর কোথাকার।
শুভ্রঃ হেঃ হেঃ হেঃ
বন্যাঃ থামা তোর ক্যাবলামো মার্কা হাসি। এই দুটো নেই?
শুভ্রঃ দুটো কেনো?
বন্যাঃ হলুদটা বৌভাতে পড়বি। আর
খয়েরিটা গাঁয়ে হলুদে। বিয়ের
শেরওয়ানী আন্টি কিনেছেন।
আমাকে বলেছেন।
শুভ্রঃ হ্যাঁ। আম্মু আর মীরা গিয়ে পছন্দ
করেছে। আমি যাইনি। যাইহোক,
একটা ব্যাপার বুঝলাম না, হলুদ
পাঞ্জাবী পড়বো হলুদে। তা না বলে বললি, উল্টো। বৌভাতে কি কেউ হলুদ
পাঞ্জাবী পড়ে নাকি!
বন্যাঃ আমি বলেছি তাই পড়বি। ব্যস…
শুভ্রঃ মাথা ঠিক আছে তো?
নাকি ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে?
বন্যাঃ আমার মাথা ঠিকই আছে। নিজের মাথায় ঢাল। পাগল কোথাকার।
শুভ্রঃ আমি পাগল হলে তো তুই সেই পাগলের বউ হতে যাচ্ছিস। তাহলে….
বন্যাঃ উফ!! বক বকানি থামা এবার। প্লিজ.. এবার সত্যিই আমার মাথা ধরেছে। চুপ থাক প্লিজ।
সন্ধ্যার পর শুভ্রর অন্ধকারে একা একা ছাদে হাঁটতে ভালই লাগে। তাই আজও
তার ব্যতিক্রম হলো না। কিরে ভাইয়া, কি করছিস একা একা? শুভ্র চমকে গিয়ে হাত
থেকে সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দিলো।
মীরাঃ আরে আমি। ভয় পাচ্ছিস কেনো?
শুভ্রঃ আওয়াজ দিয়ে আসবি না!
আমি না বলেছি, যখনই আমার
সামনে আসবি আওয়াজ দিয়ে আসবি!
মীরাঃ স্যরি। কি করছিলি?
শুভ্রঃ আকাশ দেখছিলাম।
মীরাঃ অন্ধকারে আবার আকাশ দেখা যায় নাকি? জানতাম না তো!
শুভ্রঃ যায়। দেখা যায়। এইবার বল
কেনো এসেছিস? কিছু বলবি এইতো?
মীরাঃ না, এমনি। আচ্ছা ভাইয়া,
আজকে কি বন্যা আপুর সাথে দেখা করেছিস?
শুভ্রঃ হ্যাঁ। কেনো?
মীরাঃ না, আম্মা বলছিল বিয়ের আগে ওর সাথে আর দেখা না করতে।
লোকে কি বলবে না বলবে। এ জন্য।
শুভ্রঃ হয়েছে? কথা শেষ হয়েছে?
মীরাঃ হুঁ ( মাথা ঝাঁকিয়ে জবাব দিলো)
শুভ্রঃ তাহলে এখন এইখান থেকে ভাগ।
প্লিজ। আমাকে একটু একা থাকতে দে।
মীরাঃ রাগ করছিস কেন ভাইয়া?
আচ্ছা যাচ্ছি।
শুভ্র ছাদের রেলিং এর উপর বসে আছে।
হাতে সিগারেট। একেবারে ব্যাক টু দ্য
পাষ্ট। কত কিছুর পর, কত বাধা,
নানান জনের নানান কথা। সবকিছুর পর আর কিছুদিন পর বিয়ে। প্রাইভেট টিউটর,
প্রথম পড়াতে আসা, তারপর দুষ্টুমি, আস্তে আস্তে ভাল লাগা, তারপর
ভালবাসা। ছেলের তুলনায় মেয়ের
বয়স বেশি। মেয়ে একসময় ছেলের
শিক্ষিকা ছিল। আত্বীয়স্বজনদের নানান
কথা। মেয়ের পরিবার থেকে নানান কথা। অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এইটা সেইটা। অনেক কাঠকয়লা পোড়ানোর পর…. যাইহোক,
মোদ্দা কথা অবশেষে বিয়ে হচ্ছে সেটাই বড় ব্যাপার। ভাবলেই কেমন যেনো লাগে। কত বছর পর আমাদের স্বপ্ন
স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। আর মাত্র ৪/৫ দিন। তারপর বন্যাকে আমার কাছ থেকে
পৃথিবীর কোনো শক্তি কেড়ে নিতে পারবে না। আচ্ছা, আমি এসব ভাবছি কেনো! ও তো
আমারই ছিল। আছে এবং থাকবে। ধ্যাত
ছাই! বলেই সিগারেট হাত থেকে ছুড়ে ফেলে দিলো। আরেকটি সিগারেট জ্বালালো। আর গুন গুন করে গান গাইছে।
” ওই সুদূর নীলিমায় মন হারিয়ে যেতে চায়, যেথায় সময় থেমে রয় তোমারই আশায়।
হ্যালো, জনাব। ঘুম ভেঙেছে?
শুভ্রঃ হুম।
বন্যাঃ সারারাত ঘুমোননি বুঝি?
শুভ্রঃ কি জানি।
বন্যাঃ আচ্ছা, বিছানা ছেড়ে ওঠেন। ফ্রেশ হোন। ভুলে গেছেন? আজ কি কথা ছিল?
শুভ্রঃ হ্যাঁ, আমি আসছি। জাষ্ট ১ ঘন্টা।
বন্যাঃ আচ্ছা, ঠিক আছে। শোন শুভ্র…
শুভ্রঃ বলে ফেল।
বন্যাঃ নাহ। কিছু না।
শুভ্রঃ আদিখ্যেতা না করে বলে ফেল তো।
বন্যাঃ না। আজ না। অন্য আরেকদিন বলি?
শুভ্রঃ জ্বি জাঁহাপনা, আপনার মর্জি।
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ.. হ্যাপি বার্থডে টু ইউ.. হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মাই ডিয়ার বাঁদরনি।
বন্যাঃ যাক, মনে আছে তাহলে!
আমিতো ভেবেছি ভুলে খেয়ে বসে আছিস।
শুভ্রঃ নিজেকে আমি ভুলতে পারি,
তোমাকে যাবে না ভোলা।
হাঃ হাঃ হাঃ
বন্যাঃ ঢং দেখলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।
আসছে আমার বিশিষ্ট কন্ঠশিল্প শুভ্র.. হাস্যকর।
শুভ্রঃ চোখ বন্ধ কর তো।
বন্যাঃ আবার কি হলো?
শুভ্রঃ আরে একটু বন্ধ কর না প্লিজ..
বন্যাঃ আচ্ছা করলাম।
শুভ্র পকেট থেকে কালো টিপের
পাতাটা বের করে বন্যার কপালের
মাঝখানটায় টিপটি পরিয়ে দিচ্ছে।
বন্যাঃ এবার চোখ খোলা যাবে?
শুভ্রঃ হ্যাঁ।
বন্যাঃ কি হলো?
শুভ্রঃ ব্যাগ থেকে আয়নাটা বের করে দেখুন আমার রাজকন্যা।
বন্যাঃ ওয়াও!! থ্যাংক ইউ মাই গুলটু।
হিঃ হিঃ হিঃ
শুভ্রঃ আইসক্রিম খাবি?
বন্যাঃ হুঁ। খাবো। দুজন মুখোমুখি বসা। শুভ্র গান গাইছে।
নচিকেতার গাওয়া নীলাঞ্জনা।
” হাজার কবিতা, বেকার সবই তা। তার কথা কেউ বলে না। সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা “।
বন্যা মুগ্ধ হয়ে শুনছে। তার খুব খুব প্রিয় একটি গান। আর অদ্ভুত ব্যাপার
হচ্ছে গানটি শুভ্র খুব চমৎকার
করে গাইতে পারে।
৪ দিন পর…….
.
.
.
আজ শুভ্রর বিয়ে…..
সকাল থেকেই বাসায় আত্বীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, আসা শুরু করেছেন। গেটের
সামনে ব্যান্ড পার্টি দাঁড়িয়ে।
রংবেরং এর কাগজ, বাতি, আর
বেলুনে পুরো বাড়ি সাঁজানো।
মাঝে মাঝে ব্যান্ড
পার্টি বাজনা বাজিয়ে মহড়াও দিচ্ছে।
চারিদিকে সাঁজ সাঁজ রব। মানুষে গমগম করছে।
একেবারে বিয়ে বাড়িতে সরগরম
বলতে যা বোঝায় আর কি.
লেখকঃ শুভ্র শোহান
প্রেমের কাহিনী
একটি ছেলে একটি
মেয়েকে খুব
ভালবাসত। মেয়েটি ও
বাসত।কিন্তু ছেলেটা
ছিল বেকার।একদিন
মেয়েটা ছেলেটাকে
বল্লো আমি তোমার
সাথেআর সম্পর্ক
রাখতে পারব না তুমি
তোমার পথ দেখ।
ছেলেটা কারন জানতে
চাইল।মেয়েটা বললো
তোমার মত গরিব
বেকার ছেলেকে আমি
বিয়ে করব তুমি
ভাবলে কি করে?
ছেলেটা কিছু বললো
না তবে খুব কষ্ট পেল।
তার কিছু দিন পরে
মেয়েটা একটা ছেলেকে
বিয়ে করল।সে অনেক
বড়চাকরি করে।
মেয়েটা খুব আনন্দেই
আছে।কিছুদিন পরে
তার স্বামির একটা
নতুন কম্পানিতে
চাকরি হল।এখানে
বেতন আরও বেশী।এক
বছর পর মেয়েটা তার
স্বামির অফিসে একটা
পার্টিতে গেল আর
তখন সেই ছেলেটার
সাথে দেখা হল।মেয়েটা
তাকে বললো কেমন
আছ?ছেলেটা বলল
ভাল তুমি?মেয়েটা
বলল অনেক ভাল।
আমার কোন কিছুর
অভাব নেই।আমার
স্বামি এই কম্পানির
ম্যানেজার।তুমি
নিশ্চই এই কম্পানির
লেবার।কত টাকা আর
বেতন পাও!তোমাকে
বিয়ে করলে আমার Life
taনষ্ট হয়ে যেত।হঠাৎ
মেয়েটার স্বামি এসে
বলল এসো তোমাকে
স্যারেরসাথে পরিচয়
করিয়ে দেই।স্যার এই
আমার wife আর এই
আমাদের স্যার।এই
কম্পানির মালিক।
স্যার খুবই ভাল মানুষ।
জান স্যার না একটা
মেয়েকে খুব ভালবাসত
কিন্তু তার বিয়ে হয়ে
গেছে বলে স্যার আজও
বিয়ে করে নি।মেয়েটার
চোঁখ থেকে অস্রু
গড়িয়ে পড়ল।
নামঃ সানজিদা পারভিন
valobashar Golpo picture
পড়ন্ত বিকেল। নিহাদ লেকের পাশের বেঞ্চিতে বসে সূর্য ডুবা দেখছে আর
গীটারে সুর তুলছে। হাতে যখন কোন কাজ থাকেনা, তখন প্রায়ই নিহাদ এ জায়গাটাতে
বসে থাকে, আর কল্পনার সঙ্গীত জগত থেকে সুর বের করে গীটারে ফুটিয়ে তোলে।
এই মুহূর্তে নিহাদ ওর লেখা “স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা” গানটার সুর তোলার
চেষ্টা করছে, কিন্তু হঠাৎ ওর কাজে বিঘ্ন ঘটালো একটি মেয়েলি কণ্ঠের কাশির
খুক খুক শব্দ। এই সময়ে কেউ বিরক্ত করলে নিহাদের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, ভ্রু
কুঁচকে মেয়েটির দিকে তাকালো।
.
-“আসসালামুয়ালাইকুম”
নিহাদ তাকানোর সাথে সাথে থ বনে গেল, এর কারন দুইটা এক মেয়েটির সালাম শুনে,
দুই মেয়েটি ছিল অপরূপ সুন্দরী। নিহাদের রাগ কর্পূরের মত উড়ে গেল, এক ধ্যানে
মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে সে.. মেয়েটির ডাকে ধ্যান ভাঙলো।
-“এই যে আসসালামুয়ালাইকুম”
-“অলাইকুমআসসালাম। আপনি?”
-আমি “সুমাইয়া রাহা”। প্রতিদিন বিকেলে ছোট ভাইকে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসি,
আপনাকে প্রায় দেখি এখানে বসে গীটার বাজান, ভালোই বাজাতে পারেন, আমার
গীটারের টোন ভীষণ ভালো লাগে, তাই ভাবলাম আপনার সাথে পরিচিত হয়ে নিই।
– “আমি নিহাদ হোসাইন।”
-আমি কি আপনাকে বিরক্ত করলাম? আপনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে আপনি বিরক্ত।
– “No It’s Ok…”
– “আমি কি আপনার বন্ধু হতে পারি? যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে।”
নিহাদের তেমন বন্ধু নেই, নিহাদ কিছুক্ষণ ভাবলো, মেয়েটিকে দেখে ভদ্র ঘরের মনে হচ্ছে। বন্ধুত্ব করা যায়।
.
– “ঠিক আছে, বন্ধু হতে পারেন।”
-থ্যাংকস” বলেই রাহা একটা হাসি দিল। নিহাদ ভাবছে চশমা পরা মেয়েটিকে হাসলে
মনে হয় চারপাশে মুক্ত ঝরে পড়ছে। রাহার কণ্ঠ শুনে আবার ধ্যান ভাঙল
-“সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আজ আসি আবার দেখা হবে। টাটা…..”
.
রাহা চলে যাচ্ছে, নিহাদ ওর গমন পথের দিকে তাকিয়ে ভাবছে “কে এই সুন্দরী
মেয়ে? কথা নেই বার্তা নেই বন্ধু হয়ে গেল? আর আমিও বোকার মত হ্যাঁ বলে
দিলাম”
কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মত বসে নিহাদ থেকে উঠে পড়ল, আজ আর সুর তোলা হবেনা।
.
এভাবেই প্রথম পরিচয় হয় রাহা আর নিহাদের। রাহার সাথে প্রথম পরিচয়ে একধরণের
ভালোলাগা কাজ করে নিহাদের ভেতর। মেয়েটির চাঞ্চল্য, হাসি, কথা সবকিছু
নিহাদকে মুগ্ধ করে, আগে নিহাদ মাঝে মাঝে লেকে আসত, এখন প্রতিদিন আসে।
ধীরে ধীরে ওরা ভাল বন্ধু হয়ে যায়।
.
রাহার গীটারের টোন খুব পছন্দ, একবার গীটার ছাড়া লেকে গিয়েছিল নিহাদ, আর তা দেখে সে কি রাগ রাহার….
-“আজ গীটার আনো নি কেন?”
-“আসলে ক্লাস থেকে সোজা এখানে চলে এসেছি, আনার সুযোগ পাইনি।”
-“কোন কথা শুনব না, যাও এখনি যাও গীটার নিয়ে এসো।”
-“মাত্র তো আসলাম, এখনই যেতে হবে?”
-“হে এখনই, এটা তোমার গীটার না আনার শাস্তি, তুমি জাননা তোমার গীটারের টোন না শুনলে আমার ভালো লাগেনা।”
বলেই রাহা অন্যদিকে মুখ ঘুরালো, নিহাদ বুঝল মেয়েটি অভিমান করেছে, সামান্য কারনেই অনেক অভিমান করে মেয়েটি।
-“রাহা এই রাহা। সরি তো এই কান ধরলাম আর এমন হবে না।”
-“সত্যি তো?”
-“হুম সত্যি। এমন ভুল আর করবোনা।”
-“ঠিক আছে, আজকের মত মাফ করে দিলাম।”
.
এভাবেই ওদের বন্ধুত্ব এগিয়ে যায়, ভালোলাগা থেকে কখন যে মনের মিল হয়ে যায় তা
নিহাদ নিজেও বুঝতে পারেনা। নিহাদ চেষ্টা করে রাহাকে বোঝার, রাহাকে তার
মনের কথা বোঝাবার। প্রতিদিন নিহাদ বাসা থেকে I Love You বলার প্র্যাকটিস
করে আসে, কিন্তু বলতে পারেনা, রাহার সামনে গেলেই সব গুলিয়ে যায়। এমনি করে
রাহার জন্মদিন চলে আসে, নিহাদ নিয়ত করে এবার রাহাকে তার মনের কথা জানাবে।
রাহার জন্য বার্থডে গিফট নিয়ে নিহাদ বার্থডে পার্টিতে যায়। নীল শাড়ি পরে
মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে রাহা নিহাদের কাছে আসে।
.
-“এত লেট করলে কেন?”
-“কই লেট করলাম?”
-“তুমি ৫মিনিট লেট।”
-“রাস্তায় জ্যাম ছিল তাই একটু লেট হল। হ্যাপি বার্থডে রাহা।”
বলেই নিহাদ নীল মলাটে মোড়ানো একটা ডায়েরি রাহার হাতে দেয়।
-তুমি তো লেখালেখি পছন্দ কর, মনের ভাবনা জগতের কথাগুলো এটাই লিখবে তাই দিলাম।
– “থ্যাংক ইয়ু.. Anyway আজ আমার বার্থডে তাই তোমাকে ছেড়ে দিলাম।”
-“রাহা..”
-“হুম বল”
-“না মানে একটা কথা……”
-“কি কথা বল”
-“না আসলে….”
.
এই রাহা কেক কাটবি না? সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে। রাহার এক ফ্রেন্ড ওকে ডাক দেয়।
.
-“আসছি এক মিনিট, কি বলবা বল।”
-“Happy Returns Of the Day”
-“Thanks A lot… এখন চল কেক কাটি।”
.
আর এভাবেই প্রতিবার নিহাদ শত চেষ্টার পরও রাহাকে তার মনের কথা বলতে পারেনা।
কখনো ওদের মাঝে বন্ধুদের প্রবলেম, আবার কখনো নিহাদের নিজস্ব ভয় যদি তাদের
বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়, নিহাদ রাহাকে হারাতে চায়না। বার্থডে পার্টিতে সবাই
মিলে নিহাদকে ধরে গান গাওয়ার জন্য।
নিহাদ গীটার নিয়ে রেডি হয় গান করার জন্য।
-“বন্ধুরা এই গানটি আমার একজন বিশেষ মানুষকে নিয়ে লেখা।”
.
[“একবার তাকাও প্রিয়তমা আমার দুই চোখে
দেখ বড় ভালবাসি তোমাকে…………………।
যখন তোমার দুই চোখে দেখি দুষ্টু হাসি,
বলতে ইচ্ছে করে কতটা ভালবাসি।
আমার ভালবাসার ছোঁয়ায় রাঙ্গিয়ে দেব হৃদয় তোমার।
তুমি ভালবেসে হবে কি রাজকন্যা আমার?”]
.
গান শেষ করার পর করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক, সবাই নিহাদের কণ্ঠের
প্রশংসা করে, নিহাদ রাহার দিকে তাকায় রাহা তার মিষ্টি হাসিটা হাসতে থাকে।
.
সেদিন রাতে নিহাদের গিফট করা ডায়রিতে রাহা তার মনের কথাগুলো লিখে, লেখার
সবটা জুড়েই ছিল নিহাদের কথা, ওদের বন্ধুত্বের কথা, নিহাদকে ভালো লাগার কথা।
রাহাও নিহাদকে খুব পছন্দ করে, কিন্তু সে বলতে চায়না, সে চাই নিহাদ নিজের
মুখে তাকে প্রপোজ করুক।
এভাবেই চলতে থাকে তাদের সম্পর্ক, একজন আরেকজনকে অসম্ভব ভালবাসে কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারেনা। অবশেষে একদিন….
.
নিহাদ, রাহার জন্য লেকে অপেক্ষা করছে। আজ অনেকক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু রাহা
আসছে না, নিহাদের টেনশন হচ্ছে, রাহার কিছু হল নাতো। অবশেষে রাহা এল।
-“আজ এত দেরি করলে কেন?”
-“কোচিং ক্লাস ছিল, তাই আসতে লেট হল।”
-“এটা আগে বললেই পারতে।”
(নিহাদের কণ্ঠে অভিমান)
-“সরি, সরি মনে ছিল না।”
– “It’s Okay.. তোমার জন্য নতুন একটা সুর তুলেছি।”
-“আজ শুনতে পারবোনা নিহাদ, এমনিতেই অনেক লেট হয়ে গেছে, পরে বাসায় আম্মু টেনশন করবে।”
-“চলে যাবা? আর একটু বসো প্লিজ”
-“নাহ, যেতে হবে। না হলে প্রবলেম হবে।”
-‘ঠিক আছে যাও।”
-“ভালো থেকো।”
.
বলেই রাহা ঝটপট চলে যায়, শেষ বিকেলের সূর্যটাও ডুবতে শুরু করেছে, নিহাদ
উঠতে যাবে, এমন সময় বেঞ্চের দিকে নজর পরে। রাহা ভুল করে ওর ডায়রিটা ফেলে
গেছে। নিহাদ ডায়রিটা হাতে নিয়ে রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে।
রাতে রাহার ডায়রিটা খুলে পড়ার জন্য, ওকে নিয়ে লেখাগুলো পড়তে থাকে, নিহাদ বুঝতে পারে রাহাও তাকে পছন্দ করে, তাকে ভালবাসে।
পরদিন নিহাদ লেকে যায়, গিয়ে দেখে রাহা উদাসীন ভাবে বসে আছে।
.
-“কখন এলে?”
-“অনেকক্ষণ আগে”
– আজ দেরি করে আসার জন্য আমাকে বকা দিবে না?
-সবসময় ফান করো নাতো নিহাদ, ভালো লাগছে না।
-কি হয়েছে তোমার? ‘মন খারাপ? ”
-“কাল থেকে তোমার দেয়া ডায়রিটা খুঁজে পাচ্ছিনা, কোথায় যে পড়ল…..”
নিহাদ মুচকি হেসে বলে,
-“মন খারাপ করোনা, ওরকম আরেকটা ডায়রি তোমার নেক্সট বার্থডে তে গিফট করব।”
-“স্টুপিড! ডায়রির জন্য না, আমার লেখাগুলোর জন্য খারাপ লাগছে।”
-“ডায়রিতে কি লেখা ছিল জানতে পারি?”
-“না, এটা পার্সোনাল। একি তুমি হাসছো কেন? আমার মন খারাপ আর তুমি হাসতেছো? থাক তুমি আমি গেলাম।”
বলেই রাহা উঠে দাঁড়াল।
.
-“রাহা শুনো”
-কি?
-“তোমার ডায়রিটা।”
.
নিহাদ ডায়রিটা রাহার দিকে এগিয়ে দেয়।
রাহা চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করে,
.
-“এটা তোমার কাছে এল কিভাবে?”
-“কাল ভুল করে এখানে ফেলে গিয়েছিলে।”
-“তুমি ডায়রির সব লেখা পড়েছো তাইনা?”
-“কোন সন্দেহ আছে?”
.
নিহাদ, রাহার কাছে যায়, হাঁটু গেড়ে তার পাশে বসে.. আর বলে
-“ভালোবাসো?”
-“কোন সন্দেহ আছে?”
বলেই রাহা মুচকি হাসি দেয়।
.
রাহা নিহাদের কাঁধে মাথা রেখে নিহাদের গান শুনছে ,
.
[তাঁরা ভরা জোছনার আলোতে,
তোমাকে খুঁজে পাই………
আমার মনের ভাবনার জগতে
তোমায় রাখতে চাই…
রঙধনুর আভায় ছড়িয়ে দাও
মনের ভাবনাগুলো…….
আজ ভালবেসে ছিনিয়ে নাও
অতৃপ্ত মনের ইচ্ছেগুলো…………………..]
.
শেষ বিকেলের সূর্যটা মনে হয় আজ ডুববে না, নিহাদের গান শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
লেখকঃ নাহিদ হোসাইন
সামনে কেয়ামত; বাসায় আমার
বিয়ে নিয়ে আলোচনা চলছে !’
.
‘আলহামদুলিল্লাহ । অনেক দিন ধরে বিয়া খাই না; তোমার বিয়া খামু ।’
.
‘বিয়ে খাবা না; থাপড়া খাবা ! লজ্জা করে না তোমার— জিএফএর বিয়ে খেতে চাও?’
.
‘পুরুষ মানুষের আবার লজ্জা কীসের?’
.
‘চুপ থাকো ! আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করব না । তুমি এক্ষুনি গিয়ে তোমার বাবাকে বিয়ের কথা বল ।’
.
বয়ফ্রেন্ড দুরুদুরু বুকে পাঁশের রুমে বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল— ‘বাবা, আমি বিয়ে করব !’
.
‘তোর সাথের সবাই বিবিএ শেষ করে এমবিএ করার চিন্তা করছে আর তুই করছিস বিএ
অনার্স করার চিন্তা? তোরে তো জুতা খুলে মৌজা দিয়ে পিডানো উচিৎ ! যা সামনে
থেকে ।’
.
বাবার কাছে ভয়ঙ্কর ঝাড়ি খেয়ে আবার গার্লফ্রেন্ডকে কল দিল— ‘জান বাবাকে
বিয়ের কথা বলছি । উনি বাঘের মতো হুঙ্কার দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে ।’
.
‘তোমার মত ভোন্দা মার্কা ছেলেকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না; আমি আসতেছি তোমার বাসায় । তোমার বাবা-মাকে সব বুঝিয়ে বলব ।’
— বলে গার্লফেন্ড ফোন কেটে তার মিরপুরের বাসা থেকে যাত্রাবাড়ী তে
বয়ফ্রেন্ডের বাসায় রওয়ানা দিল ।
.
… এরপর দিন যায়, মাস যায়, বছর
যায়— কিন্তু গার্লফ্রেন্ড আর আসে না । কারণ সে ঢাকা শহরের বিখ্যাত জ্যামে আটকা পড়েছে !
.
©অপ্রত্যাশিত মিসবাহ
বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তায় শিশিরভেজা ঘাস মাড়িয়ে হাঁটছে সুমন আর তার স্বপ্নকন্যা অর্নিকা। দুজনেই নিরব। কথা বলার বা দরকার কি যেখানে নিরবতায় অনেক কিছু বলে দেয়। কিন্তু তাদের নিরবতায় প্রকৃতি নিরব না থেকে শুরু হয় পাহাড়ীবৃষ্টি। হঠাৎ বৃষ্টি আসায় ভয় পেয়ে অর্নিকা জড়িয়ে ধরে সুমনকে। সুমনও জড়িয়ে ধরে আমি তোমাকে ভালবাসি, কোন ভয় নাই।
হঠাৎ করে কে যেন সুমনকে থাপ্পড় মেরে মেরে বলতেছে.. “গাধার মত দুপুর পর্যন্ত ঘুমাচ্ছিস, কি ফাজিল পুলারে পানি ঢেলে দেওয়ার পরেও বালিশ জড়িয়ে ধরে দিব্যি ঘুমাচ্ছিস, আর বিড় বিড় বিড় করে এসব কি বলতেছস…? ওঠ, বাজারে যেতে হবে।
এতক্ষণ যা হচ্ছিল পুরোটাই সুমনের কল্পনার নিদ্রাকালীনরুপ। মায়ের থাপ্পড় খেয়েই সে বাস্তবজীবেনে ফিরে আসে।
নিজের বোকামির জন্য লজ্জ্বা আর আফসোস নিয়ে কোন মতে বিছানা থেকে উঠেই প্রতিদিনের অভ্যাসমত মোবাইলটা হাতে নিতেই স্কীনে দেখে অর্নিকার অনেকগুলো মিসডকল। কল ব্যাক করতেই রিসিভ করে অর্নিকা………
— আসসালামুআলাইকুম…
— ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো..
— আপনি কে..
— মানে! তুমি অর্নিকা না..
— হ্যাঁ.. তো..
— তো মানে…তুমি আপনি আপনি করে দূরে রাখতেছ কেন..
— সেলিব্রেটিরা দূরেরই হয়..
— সেলিব্রেটি কই পেলে..
— যাকে এতবার মেসেজ করে এবং ফোন করে পাওয়া যায়না সে নিশ্চয় সেলেব্রিটি।
— সরি ভুল হয়ে গেছে..
— আরে আরে সরি বলছেন কেন। বরঞ্চ আমিই সরি যে আপনার মত বিজি মানুষকে বিরক্ত করলাম বলে..
— বললাম তো সরি। আর হবেনা, আমি ঘুম ছিলাম..
— না না আপনি ভুল করছেন..
— এই তুমি এসব বন্ধ করবা নাকি ফোন রেখে দিব..
— আপনার ইচ্ছা ভাইয়া..
— এ জগতে হায় কে ভাইয়া হতে চায়..
থাক তুমি ভাইয়া ভাইয়া করে, রাখি।
অর্নিকার এমন ব্যবহারে খুববেশী অবাক হয়নি সুমন। কারণ প্রায় মেয়েটা এমন পাগলামী করে। ফোনটা টেবিলে রাখতে গিয়েই সুমনের চোখে পড়ে তার নীল মলাটের ডায়রীটা। আগে ডায়রী লেখার অভ্যাস ছিলনা তার, কিন্তু অর্নিকার সাথে রিলেশনের পর থেকে ওর সাথে কাটানো সময়কে বাঁধতে না পারলেও সময়ের স্মৃতিটা নীল কালিতে গেঁথে রেখেছ এ ডায়রীতে। হাতে নিয়ে মলাট উল্টাতেই প্রথম পৃষ্ঠায় লিখাটা চোখে পড়ে সুমনের। তাতে লেখা…..
“আজ ২৮-১২-২০১২। আজ থেকেই আমার নতুন জীবনের নতুনত্বে পথ চলা, যে পথের সঙ্গী আমার স্বপ্নকন্যা অর্নিকা।”
জীবনের এত স্পেশাল একটাদিন ওর মনে নায় কেমনে ভেবে নিজেই অবাক হয়। অর্নিকার এতগুলো মিসডকলের রহস্য বুঝতে পারলো এতক্ষণে। আবার মোবাইল হাতে নিয়ে ইনবক্স ওপেন করে দেখে অর্নিকার অনেকগুলো উইশিংমেসেজ। সাথে সাথে অর্নিকাকে ফোন দেয়, কিন্তু তার মোবাইল সুইচডঅফ। মেয়েটা সুমনের সাথে রাগ করলেই এ কাজটিই এটাই সমস্যা।
অবশেষে অনেক চেষ্টার পর অর্নিকার কাজিন নুপুরের মাধ্যমে যোগাযোগ করা গেল…….
— কি ব্যাপার। ফোন সুইচডঅফ কেন…
— তাতে তোমার কি…
— অনেক কিছু…
— কি..
— ভালবাসা। শোন মিথিলাকে একটা প্যাকেট দিছি, ওটা নাও আর বিকেলের নদীর পাড়ে আসবা। আমিই অপেক্ষায় থাকবো..
— পারবোনা। আমাকে আর ফোন দিয়ে বিরক্ত করবানা।
বলেই ফোন কেটে দেয় অর্নিকা। নীল পেপারে মোড়ানো প্যাকটা খুলতেই নীল শাড়িটা আর কিছু নীল চুড়ি বের হয়ে আসে। শাড়ির ভাজের নীচে একটা নীল খাম। পাগল একটা নীলছাড়া কিছুই চিনেনা, আনমনে বলে সে। খাম খুলে দেখে চার লাইনে লেখা……
“ক্ষমা করে নিজগুণে
আসিও নদী পাড়ের কাশবনে,
অপেক্ষায় রবো আমি
কতটা ভালবাসি জেনে যাও তুমি…!”
সন্ধ্যায় অর্নিকা নদীর পাড়ে এসেই চমকে যায়। একটা ছোট্ট নৌকা ২৮করে মোম, বেলুন গোলাাপ দিয়ে সাজানো। আর ফুল দিয়ে নৌকার নাম লেখা স্বপ্নতরী। এসব দেখেই অর্নিকার অজান্তেই সুখের জল নেমে এলো তার চোখে। কিন্তু সুমন কই..? পাগলটাকে তো দেখা যাচ্ছেনা। সুমনকে খুঁজতে পিছন ফিরতেই দেখে সুমন তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। সুমন হাটু গেড়ে বসে ২৮নীল গোলাপের বান্ডেল অর্নিকার সামনের এগিয়ে ধরে আবৃত্তি করে………
“নীল নীলাম্বরী তুমি,
নীলিমার নীলে মিশে যাও বারবার
নীল নীলাম্বরী তুমি,
ভালবেসে হাত ধরেছো আমার
নীল নীলাম্বরী তোমার,
নীলাভ মুখখানি অন্তর্ধান করোনা কভূ
নীল নীলাম্বরী তোমার,
আমার মিলন যেন দেয় প্রভূ…।”
অর্নিকা গোলাপগুচ্ছটা হাতে নিয়ে love U বলে সুমনকে জড়িয়ে ধরে দেখে সুমনের পিছনে কিছু দূরে একটা ছোট্ট কেক। রিলেশনের বার্থডেটা এত সারপ্রাইজ হবে অর্নিকা ভাবতেই পারেনি। সে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সুমনকে…….
— এত ভালবাস আমাকে…
— না
— না..?
— হ্যাঁ, আমার ভালবাসা আকাশের চাইতেও বিশাল।
— তবে এত কষ্ঠ দাও কেন..
— কষ্টের পরেই তো সুখ।
— হুম..
একফালি চাঁদ আর জোনাকির মৃদু আলোয় পুরো জগৎটাই আজ আলোকিত। আর সেই আলোকিত অন্ধকারে নৌকায় বসে আছে সুমন তার স্বপ্নকন্যা অর্নিকাকে নিয়ে। মোমের আলো অন্ধকারে অর্নিকার গলা ভেসে আসছে…….
তুমি তাই তাইগো; আমারো পরাণে যাহা চাই..।
লেখকঃ sumaiya sumi
এক, দুই, তিন. . . . .
নিধী গুনে যাচ্ছে আর রাইয়ান উঠবস করতেছে। তার হাত দুটি কানের উপর অবস্থারত।
তার অপরাধ সে পার্কে আসতে ১ঘন্টা লেইট করেছে সাথে নিধীর ফরমায়েশের
দোলনচাঁপা আনতেও ভুলে গেছে। তার চেয়েও বড় অপরাধ রাইয়ানের মুখে সিগারেটের
গন্ধ।
আশেপাশের লোকজন তা দেখতেছে, রাইয়ান তা খেয়াল করে নিধীকে বুঝানর চেষ্টা করতেছে….
— এবার মাফ করে দাও। সবাই দেখতেছে।
— দেখুক, তাতে আমার কি.! সিগারেট পোড়ানোর সময় শাস্তির কথা মনে থাকেনা…?
— থাকে তো।
— তবে ধোঁয়া ওড়াও কেন..?
— এর উত্তর শুনার আগে একটা কবিতা শুন প্লিজ..
— কি কবিতা..?
— যে ঠোঁট পুড়েছে সিগারেটের আগুনে,
আর যে ঠোঁটে দীর্ঘ চুম্বনেও বসন্ত হাসে না,
আক্ষরিক অর্থে সে সব যৌথ ঠোঁট বিষাক্ত হলেও
মনে রেখো তুমি ঠোঁটের পতিতালয় গড়েছ
আর আমি সিগারেটে প্রতিবার ভালবেসে ঠোঁট ছোয়াই।
— কবিতাটা খুব সুন্দর। হঠাৎ আমাকে শুনানোর মানে কি স্যার..?
— সিগারেটের মহাত্বটা বুঝতে পারলে না..!
— তার মানে তুমি সিগারেট ছাড়বা না..?
— ছাড়তে পারিনা যে…
— ঠিক আছে তাহলে আমাকেই ছেড়ে দাও, সিগারেট নিয়ে থাকো।
— কি যে বলনা তুমি, তোমাকে ছাড়া আমি থাকবো কেমনে। আচ্ছা যাও আজ থেকে সিগারেটই ছেড়ে দিলাম।
— প্রমিজ..
— হ্যাঁ। আমাকে ছেড়ে যাবে না তো..
— নাহ, শর্ত একটাই… আমাকে কিন্তু অনেক ভালবাসবে..!
নিধীর কথা শুনে চমকে ওঠে রাইয়ান । কারণ ৬মাস আগেও আরিশা এই কথাই
রাইয়ানকে বলত। রাইয়ান-ও সারাক্ষণ চেষ্টায় থাকতো আরিশাকে ভালবেসে সব আবদার
মিটিয়ে খুশি রাখার। কিন্তু আরিশা কথা রাখেনি। একটা ছোট্ট এসএমএসে প্রকাশ
পায়
আরিশার আসলরুপ।
এরপর থেকে স্বাভাবিক রাইয়ান কেমন অস্বাভাবিক হয়ে যায়। বাসায় থাকলে একা একা
থাকে ,আর ভার্সিটিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মামার দোকানে কার্ড খেলা আর
সিগারেটের ধোঁয়ার আড্ডায় পরে থাকতো। কেউ ভাল কিছু বল্লেও তার সাথে খারাপ
ব্যবহার করত। রাইয়ানের ভার্সিটির পাশের কলেজে পড়ে নিধী। যে কলেজের প্রথমদিন
থেকেই রাইয়ানকে মনে মনে আপন করে নেয়। কিন্তু ভার্সিটি পড়ুয়া রাইয়ানের
ফ্রেন্ড আর তার কাজিনের কাছ থেকে রাইয়ান-আরিশার রিলেশনের কথা শুনে আর
আগায়নি। কিন্তু দূর থেকে ফলো করে যেত। রাইয়ানের হঠাৎ অবনতি দেখে কাজিনের
কাছ থেকে রাইয়ানেরফেবু আইডি নিয়ে তার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে। রাইয়ান প্রথমে
পাত্তা না দিলেও পরে নিধীর জিদের কাছে হার মানে। নিধীর ছোট্ট ছোট্ট চ্যাটে
বন্ধুত্তের কেয়ারিং-এ আর অকৃত্রিম ভালাবাসায় রাইয়ান ফিরে আসে সেই আগে
স্বাভাবিক রাইয়ানে।
নিধীকে পেয়ে যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মুক্তি পায় রাইয়ান। তাই নিধীকে হারাতে চায়না আর। কিন্তু নিধীর মুখে আরিশার সেই কথা শুনে হারানোর ভয়ে এতক্ষণ এসব ভাবতেছিল। রাইয়ানকে চুপচাপ দেখে নিধী বুঝতে পারে তাই রাইয়ানকে। তাই জড়িয়ে ধরে বলে….
— তুমি বুঝনা কেন, তোমাকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না। হয়তো, জীবন বাজি রাখলেও নীলপদ্ম এনে দিতে পারবেনা। কিন্তু তোমার হৃদয়ে যে ভালবাসা জমে আছে সেটাই আমার ১০১টি নীলপদ্ম, তাই দিয়েই আমাকে বেঁধে রেখো তোমার সাথে সারাটি জীবন।
রাইয়ান চুপচাপ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিধীকে। না তার আর ভয় নেই। নিধীর চোখে ভাষায় বলে সে কখনো ছেড়ে যাবেনা। নিধী আছে আর থাকবে তারই জানান দিচ্ছে রাইয়ানের বুকে মুখ গুজে।
হঠাৎ হিমেল বাতাসে উপরের কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে একঝল্কা ফুল ঝরে পরে তাদের উপর। যেন প্রকৃতি একাত্ত্বা প্রকাশ করতেছে রাইয়ান-নিধীর ভালবাসা আর রাইয়ানের আগের জীবনের প্রত্যাবর্তনের সাথে…….