খুব ছোট্ট করে বললেও বলতে হয়,
ধন্যবাদ ।
কিন্তু মুখে বা মনে ধন্যবাদ শব্দটা একবারের জন্যও উচ্চারন করিনি
মনে হল এক সেকেন্ডের জন্য ভুলে গেছি কি বলতে হবে
মনে পড়ে না এমন ঘটনা ঘটেছিল শেষ কবে
খুব বিশেষ কিছু নয়
দুটি কাঁটা, একটি গোলাপ আর কিছু পাতাই যেন
মনের সব কথা কয়
মধ্য দুপুরে শান্ত বাতাসে মৃদু মৃদু শিহরন
কালচে সবুজ পাঞ্জাবি তার আজকের আবরন
হাতে ধরা একটি লাল গোলাপ
নরম চুলের হালকা সিঁথিতে সোনালি রোদ খেলে
তার শান্ত দু'চোখের তারায় যেন দুষ্টুমিরা নাচে
একটুকরো স্নিগ্ধ হাসি তার মুখ অবয়বকে করে রেখেছে স্থির
ভালোলাগা আর ভালোবাসার দোলাচলে আবেগময় মন
বন্ধুত্ত্বের উষ্ণতা আর ভালোবাসা
যে ভালোবাসায় কোন প্রত্যাশা নেই,
চাওয়া পাওয়া নেই
আছে শুধু বিরতিহীন ভালোবাসা আর
সকালের মুখ হল গোমড়া
টিপটিপ বৃষ্টির দখলে কালো পিচের রাস্তা
ধূলায় আবৃত পাতাগুলো নতুন জৌলুসে অহংকার করছে
বৃষ্টিতে মাখামাখি পলাশের বসতবাড়ি
কিছুটা বিরক্ত যেন ঝুমকো জবা
কেউ পা চালিয়ে, বৃষ্টি বাঁচিয়ে চলছে শুকনো গন্তব্যের দিকে
ক্যাম্পাস ছাউনির চত্বরে ভিড় জমে গেছে গাড়ির,রিক্সার
আড্ডা, তর্ক, গান আর মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে
বরণ করা হলো ফাগুনের অনাকাঙ্ক্ষিত বর্ষণকে
বা ভালোবাসার গান গেয়ে যাওয়া দু’টি নীলকণ্ঠ পাখি
হাতে হাত রেখে নেমে পড়ে কালো পিচের রাস্তায়
পা মেলায় মুক্তোর দানার মতো বৃষ্টির ফোটার সাথে
ভালোবাসার উষ্ণতায় দশটি আঙুল জড়িয়ে থাকে বিশ্বাসে
জীবনের মানে, পরিচয় ঘটে জীবনের মায়া ও ভালোবাসার সাথে
দৃষ্টি তাদের সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেছে বহুদূর
চশমার কাঁচে লেগে থাকে বৃষ্টির ঝাপটা
পারে না তাদের দূরদৃষ্টি রুখতে
ফাগুনের বর্ষণে ভালোবাসা শুদ্ধ হয়
ভালোবাসা বেঁচে থাকে চিরকাল এই প্রতিজ্ঞা দুজনের মনে ছায়া দেয়
মায়া দেয়, উষ্ণতা দেয়, শক্তি দেয়।
ফাগুনের বর্ষণে, দুটি প্রাণের আলোড়নে
ভালোবাসা গান গেয়ে যায়।
কখনো কখনো ভাবি অভিমান করে
তোমায় ছেড়ে পালিয়ে যাব
আমিতো হলদে পাখির মতো মুক্ত
ইচ্ছে করলেই যুগল ডানা মেলে
পাড়ি দিতে পারি সাত সমুদ্দুর।
উধাও হতে পারি শাদা মেঘের রাজ্যে
বিস্তৃত নীলিমার নিঃসীম দিগন্তে।
সহসা টান পড়ে হৃদয় নাটাইয়ের অদৃশ্য সুতোয়
যাতে আমি বাঁধা পরে গেছি।
থমকে দাঁড়াই, সুরলহরী শুনতে শুনতে
কখনোবা ঘুমিয়ে পড়ি ঘাসের কোলে
ঝরা পাতায়, প্রবীণ কোন বটের ছায়ায়
ঘুমের ঘোরে আমার চোখে গোলাপি রঙ স্বপ্ন ভাসে
স্বপ্নে আমি হাঁটতে থাকি
মায়াবিনীর হাতটি ধরে
প্রীতিবোধের উষ্ণ ছোঁয়ায়
উচ্ছ্বল হাসি ছড়িয়ে পড়ে, খোলা হাওয়ার ভেলায় ভেসে
নতুন সূর্য, মিষ্টি সকাল, সতেজ আশা
এরই নাম কি ভালোবাসা ?

(দুলা)
ভাইয়া এমন কোন খ্যাতরে তুমি চিন যে গ্লাসে করে পানি খাইনা, এতে নাকি তার
তৃষ্ঞা মেটেনা। তাকে খাইতে হবে মিনারেল ওয়াটারের বোতলে করে , তাও আবার
বোতলে মুখ দিয়া।
কারও এমন করে ভাল লাগলে সে খাবে , তাতে সমস্যা কি ?
সমস্যা কি মানে, পুরাটাই সমস্যা।
পানি খাবে সে আর আরেকজন বোতলে পানি ভরে রাখবে , কেন বাবা গ্লাসে খেলে সমস্যা কি !!!
আরে
পুরা ঘরটাই মনে হয় ম্যারাথনের ট্রাক, খাট থেকে নামলে একটা, পিসি টেবিলের
পাশে একটা, ড্রইং রুমে একটা, ব্যালকনিতে একটা , চারিদিকে তাকালে দেখবা
পানির বোতল আছেই, আর সে বোতলে পানি ভরে রাখতে হয় আমাকে।
পানি না থাকলে কি আব্দার , এই এক বোতল পানি দাওনা। ![]()
সে পানি আমি খেতে পারলেও একটা কথা।
কেন তুমি খাইলে সমস্যা কি ?
আরে বোতলে মুখ দিয়া পানি খাই বললামনা।
ও বোতলে মুখ দিয়া পানি খাই , সেটা তুমি খাইলে সমস্যা তো কিছু দেখিনা। ![]()
বলে কি ?
হ্যাঁ , আমি কোন সমস্যাতো দেখিনা, ঐ ঠোঁটে যখন চুমু দাও তখন মনে থাকেনা ![]()
ভাইয়া তুমি থাম, তোমারে আর কিছু বলতে হবেনা।
আচ্ছা তুমি কি সবসময় এভাবেই পানি খেয়ে আসছ !!
আম্মা তোমারে কিছু বলে নাই।
হুমম
এভাবেই খেয়ে আসছি। এখনতো অনেক ভাল বোতলে মুখ দিয়ে খাই। একদিন জগেও মুখ
দিয়া খেতে গিয়া আম্মুর ঝারি খাইছি, তার পর থেকে আর জগে মুখ দিয়া খাইনা ।
কি ??
হ্যাঁ
। আটানব্বই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখার সময় ডাইনিং এ যাইয়া জগ
দিয়ে পানি খাইতে যাইয়া আম্মুর চোখে পড়লে , তনি বলেন জগ থেকে সবাই পানি খাই,
এভাবে আর খাবিনা। সে থেকে জগে আর পানি খাইনা। খাইতে গেলে আম্মু কথা মনে
পড়ে। তাই ওটা বাদ। ![]()
ভার্সিটি লাইফে কি করছ। তোমার কি কোন মগ টগ ছিলনা, এমন বদ অভ্যাস হল কেমনে।
মগ একটা আম্মু দিয়ে দিছিল। একদিন কে জানি সেটা ভেঙ্গে ফেলল, তখন থেকেই !! ![]()
মগ ভাঙ্গছে মগ কিনতা আরেকটা ।
খাইয়া
দাইয়া আমার আর কাজ নাই। আর আমারতো কোন গার্ল ফ্রেন্ড ও ছিলনা যে আমারে
একটা লাভ ইউ লেখা মগ গিফট করব। পোলাপানরে ওগো প্রেমিকারা কত সুন্দর সুন্দর
মগ গিফট করত
কোনটার কোমড় ভাঙ্গা, কোনটা ইয়া বড়, কত কিছু লেখা, আমারে কেউ কিছু দেইনাই, তাই আমি কোকের বোতলে পানি খাইতাম। ![]()
তোমারে
কেউ দেয় নাই ভাল হইছে। আর দিলেইবা কি হইত। তুমিত একটা রাখাল। রাখাল যেমন
রাস্তা ঘাটে কল থেকে পানি খাই তুমি ওত তেমন, আস্তে যাইতেভাত বাড়াইয়া বোতল
একটা নাও, আর ঐটা থেকে পানি খাও।
ইস একটা গার্ল ফ্রেন্ড থাকলে আমারে আজকে এই কথা শুনতে হইতনা। কেউ আমারে রাখাল কইতনা।
কেন ??
গার্ল ফ্রেন্ড থাকলে সে আমারে একটা মগ গিফট করত, ামি সারাদিন সে মগে পানি খাইতাম , তাহলে আজকে তুমি আর আমারে রাখাল কইতে পারতানা । ![]()
চুপ থাক। আমার মত বউ পাইছ বলে তোমার ভাগ্য। কত সুন্দর করে পরিস্কার বোতলে পানি ভরে রাখি ।
আর আমি যে সেই ব্যাচেলর জীবনে শেখা জ্ঞান দিয়া তোমারে গরুর মাংস রান্না কইরা খাওয়াই।
আহা কি সে গরুর মাংস। রান্না শেষে কিচেনে আর হলুদ খুজে পাওয়া যায়না।![]()
সে রান্না খাইয়াত ঠিকই বল দারুন হইছে ।![]()
যাও আর খামু ওনা কমু ওনা। এখন থেকে আমিই রান্না করুম। তোমার বোতলে তুমি পানি ভরে খাবা। ![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
এই তোমরা কি শুরু করলা। চল খেতে চল।
ভাইয়া আপনিই বলেন কতক্ষন আর এসব সহ্য করা যায়। আমি নাকি রাখাল। আমি কি সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরি নাকি !!!
তো, তুমি কি । যারে ইচ্ছা জিজ্ঞাসা কর, সেই বলবে তুমি রাখাল, রাখালের মত ঘোরা ছাড়া তুমি আর পার কি।
ও এখন এই কথা !!! ভ্যানিটি ব্যাগের মত সাথে নিয়া ঘুর, আর আমি এখন হইলাম রাখাল
আপা তোর ঘরে মিনারেল ওয়াটারের বোতল আছে। কোকের খালি বোতল হলে ও হবে।![]()
কেন !! বোতল দিয়া কি করবি।
আরে সবাই কি গ্লাসে পানি খাইতে পারে নাকি। ![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
এই পানির বোতল টা দাও।
এই বোতলে আমি মুখ লাগাইয়া পানি খাইছি।
তো কি হইছে। ![]()
![]()
তুমি কিভাবে খাবা এখন ![]()
কেন তুমি মুখ লাগাইয়া খাইলে আমি খাইতে পারবনা নাকি
পারবানা কেন ।
বোতলটা দাও ।
এই নাও । যাক দুলাভাই এর কথা তাহলে মাথায় ঢুকছে। ![]()
![]()
এইইই একদম চুপ। কোন কথা বলবানা। ![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
প্রচুর জল পেলে গভীর মাটির তলাকার বীজ যেমন অন্কুরিত হয়, তেমনি
মেয়েদের কোমল হাতের স্পর্শে পুরুষের মনের ভাবনারাও অনায়াসে অন্কুরিত হয়ে
অবিলম্বে ডালপালা মেলে ভাষার ফুলে ফুটে উঠে। আমি বিশ্বাস করি না অপরিচিত
কোনো পুরুষকে মেয়েরা বিয়ের দিন থেকে ভালবাসতে পারে। যেহেতু স্বামী তাই
ভালবাসতেই হবে এমন বোধ বাঙালী মেয়েদের মধ্যে ঢোকানো হয়ে থাকে কিন্তু সেটা
স্বাভাবিক নয়। হয়তো এক সঙ্গে থাকতে থাকতে এক সময় ভালবাসা তৈরী হয় কারো
কারো ক্ষেত্রে কিন্তু বেশীর ভাগই পরস্পরকে মেনে নিয়ে দীর্ঘকাল যাপন
করেন।মেনে না নিয়ে বলে মানিয়ে নিয়ে বলাটাই সঠিক। সে ক্ষেত্রে নারীর
প্রথম ভালবাসা অবশ্যই তার সন্তান। অনেক সুখ, অনেক উদ্বেগ এবং প্রচন্ড
যন্ত্রনা দিয়ে নিজস্ব যে মানুষটিকে নারী পৃথিবীতে নিয়ে এল তার বদলে সে
পেল ভালবাসার স্বাদ। আবার স্বামীর যৌন আচরণ বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হয়েছে যে
নারীকে সে কিছুতেই সন্তানকে নিজের বলে ভাবতে পারে না। ভালবাসার জন্মের
পেছনে সুস্থতা দরকার। পৃথিবীর মায়েরা তাদের সন্তানদের ভালবাসেন এই
ভালবাসার প্রকাশ কত সহজে বোঝা যায়। কিন্তু একমাত্র যত্ম করা অথবা কথা শোনা
ছাড়া সন্তানরা তাদের মাকে ভালবাসছে বোঝবার উপায় নেই। একবার কাউকে
ভালবাসলে আজীবন তাকে ভালবাসতেই হবে? মনে ভালবাসা আর না এলেও! ধরো গোলাপ যখন
ফুটেছে তখন তোমার খুব ভাল লাগল। সেই গোলাপের সব পাপড়ি যখন একে একে খসে
পড়ছে তখনও কি সেই ভাললাগাটা আঁকড়ে রাখতে পারবে?
মেয়েরা গনেশের মত, দুর্গার চারপাশে পাক দিয়ে যে জগৎ দেখে তাতেই তৃপ্তি আর
পুরুষরা কার্তিকের মতো সারা পৃথিবী ঘুরে আসে অথচ কি দেখে তা তারাই জানে না
। মেয়রা প্রথমবার যার প্রেমে পড়ে তাকে ঘৃনা করলেও ভুলে যেতে পারে না।
পরিস্কার জল কাগজে পড়লে দেখবেন শুকিয়ে যাওয়ার পরেও দাগ রেখে যায়। কোনো
মেয়েই খারাপ হয় না। পুরুষরাই তাদের খারাপ করে। কিন্তু খারাপ হয়ে যাওয়ার
পর তারা আর ভাল হতে চায় না সহজে। অবশ্য সবার ক্ষেত্রে নয়, কিছু
ব্যতিক্রমও যে নেই তা নয়।
বুদ্ধিমান মাত্রই জানেন, মেয়েদের দেখা যায় না, শোনা যায়। প্রকৃতির
নিয়মই হলো স্ত্রী প্রানীর চেয়ে পুরুষ প্রানী বেশী সুন্দর। অতএব সৌন্দর্য
দেখার জন্য মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু কারার কোনো যুক্তি নেই। পুরুষদের ভাললাগে
বলেই মেয়েরা সুন্দরী। মেয়েরা যে পাত্রে থাকে, জলের মতো সেই পাত্রের
চেহারা নেয়, আমি কিন্তু তা মানি না। মেয়েরা যাকে শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে
শুধু তার কাছেই মাথা নিচু করে থাকতে চায়। আবার যে এক বার মাথা নোয়ায়
তাকে সমাজ কখননোও মাথা উঁচু করতে দেয় না। ঈশ্বর মেয়েদের শরীর আলাদা করে
গড়েছেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে যা যা দরকার, ভেতরে বাইরে তার ব্যবস্থা
করেছেন। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। মেয়েদের তিনি আরো একটি জিনিস
দিয়েছেন, সেটা অনুভূতি। তীব্র, তীক্ষ্ম। স্বামী যদি মিথ্যা কথা বলে, তাহলে
স্ত্রীর মনে সেই কারনে অস্বস্তি হয়। ছেলেদের মনের কথা মেয়েদের পুরোপুরি
বোঝা সম্ভব নয় বলেই বোঝে না, কিন্তু একটু এদিক সেদিক হলেই তাদের অস্বস্তি
হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা যত শিক্ষিতই হোক, অবচেতন মনে নিজেদের
আসবাব বা খাদ্যসামগ্রী বলে মনে করে। এই মেয়েরা মানে অবশ্যই তামাম নারীকুল
নন, ব্যতিক্রম আছেই, তাদের কথা বলছি না। সহবাসের সময় তারাও তো কম উপভোগ
করে না। কিন্তু পরবর্তীকালে অযত্ম পেলেই নিজেকে পুরুষের ব্যবহৃত সামগ্রী
হিসাবে ভেবে বসেন। এটা ভাবা মোটেও ঠিক না । কারন সমাজ তথা রাষ্ট্রীয়
উন্নয়নে নারীর ভূমিকাকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।
সবচেয়ে বড় কথা হলো নারীরা মায়ের জাত। পৃথিবীর সমস্ত পুরুষই কোন না কোন
নারীর গর্ভ থেকে এসেছে।